শিরোনামঃ
বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্দা উঠলো কক্সবাজার শিল্প ও বাণিজ্য মেলারকুয়াশাস্নাত ভোরে শহীদদের স্মরণস্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢলবঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাস্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাসরকারের স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন –ডা: শেখ শফিউল আজমচট্টগ্রাম প্রাথমিক দন্ত চিকিতসক কল্যাণ সমবায় সমিতির নির্বাচন সম্পন্নপশ্চিম টইটং নুরানী একাডেমীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনমহেশখালী-বদরখালী বিজয় দিবস উপলক্ষে ফুলের দোকান সমূহে বিক্রির ধুমমহেশখালীতে অবৈধ করাতকলে চলছে গাছ চিরাই, বনবিভাগ নির্বিকারজাতীয় ছাত্র সমাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃবৃন্দের সাথে পানিসম্পদ মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতকক্সবাজার শিল্প ও বানিজ্য মেলার উদ্বোধন আজজাতিকে মেধা শূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলশেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত তরুণ সমাজকক্সবাজারে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদীপ প্রজ্জলন

কক্সবাজারের উন্নয়নে ৩৪৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

1454492870.jpg

শিপন পাল বিশেষ প্রতিবেদক :

২০১৭-১৮ অর্থ বৎসরে কক্সবাজারের উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩৪৮৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ধারণ করা হয়েছে। এডিপিগুলোর মধ্যে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকট ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে। গত শনিবার ১৪ মে ২০১৭-১৮ অর্থ বৎসরের জন্য নতুন এডিপিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় অথর্নৈতিক পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭-১৮ অর্থ বৎষরের এডিপি থেকে জানা যায়, সারাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প উন্নয়নে ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকার নতুন এডিপি অনুমোদিত হয়। ওই অনুমোদনে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২২২০ কোটি টাকা এবং দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৫৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকার বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম দোহাজারী হতে রেললাইটি শুরু হয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া-রামু উপজেলার অন্তর্গত হয়ে কক্সবাজার সদর পর্যন্ত প্রায় ১১০ কি.মি দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কক্সবাজার জেলার ৩৩টি মৌজার প্রায় ৭২ কি.মি দীর্ঘ রেললাইন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে চকরিয়া, রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩টি এলএ কেস-এ অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এই ৩টি এল.এ কেসে মোট ১০৭৩ একর জমি নির্ধারণ করা হয়। তৎমধ্যে ৬টি সংস্থার ১৮৯.৮৮ একর জমিও রয়েছে। সংস্থাগুলোর মধ্যে বন বিভাগ থেকে ১৬৫.১১ একর, জেলা পরিষদ থেকে ১.৮৬ একর, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১.৫৭ একর, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ৬.১৫ একর, সড়ক বিভাগ থেকে ৪.৬৬ একর, কৃষি বিভাগ থেকে ১০.৫৩ একর জমি একর জমি রয়েছে বলে জানা যায়।
সুত্রটি থেকে আরও জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা এবং রেলওয়ের সমন্বয়ে যৌথ তদন্তের কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল গত মার্চ মাসে। ওই সময় অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চালিয়েছিল সংশ্লিষ্টরা। চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাবের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে গত ১৫ মার্চ। এই ধারাবাহিকতায় দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকটে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ১৫৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থ বৎসরে।
এদিকে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থ বৎসরের জন্য ২২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে অনুমোদন দিয়েছে এডিপি। এই প্রকল্পে কয়লা আমদানী, কয়লা স্টোরেজ, জেটি ও কয়লা হ্যাল্ডলিং সুবিধা, পাওয়ার প্ল্যান্ট, শহর উন্নয়ন, পল্লী বিদ্যুতায়ন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং সড়ক যোগাযোগ নির্মাণ অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
মাতার ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার কোল ফায়ার্ড বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি কমানো, মানব সম্পদ বিকাশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে বলে জানা গেছে।
প্ল্যান্টটি বেইজ লোডে পরিচালিত হবে এবং মাতারবাড়িতে আমদানীকৃত কয়লা ব্যবহারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত করা হলে বিদ্যুতের ঘাটতি এবং দেশের বিশেষ করে দক্ষিন অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা পুরণ হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। একই বৎসরের অক্টোবরে ইআইএ রিপোর্ট অনুমোদন করা হয়। ওই বৎসরের জুনে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৪ সালের আগস্টে ডিপিপি অনুমোদিত হয়। একই মাসে ভূমি অধিগ্রহণ সমাপ্ত হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে বেসিক ডিজাইন এবং বিডিং ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ইপিসি ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুনে পোর্ট, হারবার এবং সিভিল ওয়ার্কস সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

PinIt
Top