শিরোনামঃ
রোহিঙ্গাদের ৮৫% শিশুই বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তসেই ‘পুলিশের ভিক্ষুক মায়ে’র দায়িত্ব নিতে চান এসআই বশিরআজ শুভ মহালয়া : চণ্ডীপাঠে দেবী দুর্গাকে আবাহনআঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যতায় জনস্রোতে মিশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারাকোন সতর্কবার্তায় আমরা ভীত নই –সুচিরোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে ব্রিটেন-ফ্রান্সের আহবানরোহিঙ্গাদের দূদর্শার কারণ আরসা বা আল ইয়াকিনবাংলাদেশকে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমাররোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে আমার দেশের মানুষ —প্রধানমন্ত্রীরোহিঙ্গারা পাহাড় কাটায় অপূরণীয় ক্ষতিতে কক্সবাজারদেবী দুর্গার আগমনে ব্যস্ত কক্সবাজারের মৃৎ শিল্পীরাপিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের শুভ সূচনাজেলা হিন্দু পরিষদের সম্পাদকের মাতার মৃত্যুতে শোকনতুন অফিস বাজারে সাব ইজারাদারদের দৌরাত্ম ॥ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনাপেকুয়ায় গাঁজাসহ নারী আটক

রোহিঙ্গারা যতক্ষণ নিজ দেশে ফিরবেনা, ততদিন পাশে থাকবো- শেখ হাসিনা

12.09.2017.jpg

এক রোহিঙ্গা নারীকে মমতার পরশ বোলাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীনঃ
রোহিঙ্গা উদ্ধাস্তু হয়ে আশ্রয় নিয়েছে এসেছে। এরা অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। আমরা আছি আর্তমানবতার সেবায়, জনগণের পাশে আমরা আছি, যতক্ষণ তারা নিজের দেশে ফিরতে না পারবে অবশ্যই আমরা তাদের পাশে থাকবো , এটা আমার ওয়াদা। কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পর্যক্ষেণ পরবর্তী মঙ্গলবার সকালে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিকভাবে আমরা সব করবো। ইতোমধ্যে এদের সহায়তায় ব্যক্তি, প্রতিষ্টান ও আর্ন্তজাতিক মহল এগিয়ে এসেছেন। এদেরকে সহযোগীতা করা আমাদের দায়িত্ব, আমাদের কর্তব্য। যারা এসেছে তাদের আশ্রয় খাদ্য আশ্রয় শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা করে যাবো।
উখিয়া কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের ভেতর গড়া মঞ্চে স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা জনগোষ্টির উদ্দেশ্যে তিনি ভাষণ দেন। এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় জনগণকে উদেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর যাতে যেনো কোন কষ্ট না হয় আপনারা সে দিকে দেখনে। মানবতার খাতিরে আপনার দেখবেন। মানবিক কারণে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আশ্রয়ের সন্ধানে আসা লোকজনকে সহয়োগীতায় এগিয়ে এসেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দলী নেতাকর্মী, আর্মি, বিজিবি সহ সকল ধরনের মানুষ। এদের জন্য আমাদের যত টুকু করা করবো, আর্ন্তজাতিক ভাবে এদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। ডিসির মাধ্যমে ত্রাণ মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। তাদের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করেছি। এটা আমাদের দায়িত্ব, আমাদের কর্তব্য। যারা এসেছে তাদের আশ্রয়, খাদ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা করে যাবো। যারা গুলিবিদ্ধ, আহত অসহায় আমরা তাদের সহযেগীতা করে যাবো।
মিয়ানমার সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের জন গোষ্টিকে যারা এখানে আশ্রয় নিয়েছে তাদের যেনো ফেরত নিয়ে যান।
তিনি বলেন, কোন দেশের জনগণ যদি অন্য কোন দেশে আশ্রয়ে থাকে, বা উদ্ধাস্তু হয় এটা একটা দেশের জন্য সম্মানের না। আমার দেশের মানুষ অন্য দেশে আশ্রিতা থাকবে কেনো, মিয়ানমার সরকার নিশ্চয় এটা উপলব্ধি করবে এবং এদেরকে দেশে ফিরে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৯০৯ ফ্লাইটটি।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সফরে রয়েছেন, তার ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আবুজ রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, মুখ্যসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রেসসচিব ইহসানুল করিমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আজ শেখ হাসিনা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আরো কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। কয়েকটি শিবিরের কয়েকজন শিশু, নারী ও আহত শিশু রোহিঙ্গার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
এরপর সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
টানা দু’বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার অষ্টমবারের মতো কক্সবাজার সফর। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন।
প্রসংগত, টেকনাফ ও উখিয়ায় বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আশ্রয় নেয়া তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিচ্ছে সরকার। উখিয়ার কুতুপালংয়ে বন বিভাগের দুইশ একর জমিতে তিনশ শেড বানানোর কাজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে।
মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও পুরুষকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। আগে থেকে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়ে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করছে দেশ। গত ২৪ আগস্টের পর থেকে নতুন করে ৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে। আসছে আরো রোহিঙ্গা। পুরাতন ও নতুন মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থান করছেন।

PinIt
Top